শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী খ্রিস্টযাগ, বর্ণাঢ্য র্যালি, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন ও নৃত্যনাট্যসহ নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
সকালে তুমলিয়া গির্জায় ধর্মীয় খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে তুমলিয়া মিশন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয়।
কলেজের প্রভাষক আশরাফী সোহেল খান ও দীপা গরেটি গমেজের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেভারেন্ড ফাদার আলবিন গমেজ। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রিস্টিনা রোজারিও।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার হুমায়ুন কবির, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর বাক্কু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাজীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক অনিল লিও কস্তা, মেট্রোপলিটান হাউজিংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ডিউক প্রদীপ রোজারিও, এসএমআরএ সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মেরী শুভ্রা, সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী জুলিয়ানা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথি কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে গড়ে তোলাও একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কলেজ শাখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে অবদান রেখে চলেছে।
ইউএনও এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম বলেন, সময়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে প্রতিষ্ঠানটিকে ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা খ্রিস্টিনা রোজারিও বলেন, কলেজ শাখার ১২ বছরের পথচলা তাঁদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীরা যেন ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।
কলেজ শাখার ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়। বিকেলে শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।