আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কৌশলগত সম্মেলন ‘বঙ্গোপসাগর সংলাপ ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পাঁচ শিক্ষার্থী। ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
সংলাপে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইসরাত জাহান শাওলি (২০১৯-২০), গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মো. আজম খান (২০১৮-১৯) ও অনন্যা সাহা রায় বৃষ্টি (২০২১-২২), লোকপ্রশাসন বিভাগের গোলাম রাব্বানী মারুফ (২০২০-২১) এবং মরিয়ম আক্তার (২০২২-২৩)।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এবারের সংলাপের প্রতিপাদ্য—‘Fragments, Frontiers and Futures: Navigating Power, Technology and Trust in a World Rewritten’। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আস্থাসহ সমসাময়িক নানা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে শতাধিক দেশের অংশগ্রহণকারী, দুই শতাধিক বক্তা এবং তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংলাপে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গোপসাগরকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, বন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংলাপে অংশ নেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক নানা বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এটি তাঁদের জন্য একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়ে যে ধারণা ও দিকনির্দেশনা তাঁরা পাচ্ছেন, তা ভবিষ্যৎ পড়াশোনা ও কর্মজীবনে কাজে লাগবে।
তাঁরা আরও জানান, বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময় তাঁদের চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভবিষ্যতে কাজ করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে।