জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও পাঁচ মাসেও তা জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। গত ১৮ মে কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে সন্ধ্যায় ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের একটি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন সাংবাদিকরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখা। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানায় সংগঠনগুলো।
জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদ বলেন, ১৭ মে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ ও মারমুখী পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার হয়নি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও পাঁচ মাসেও কেন প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তা বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম বলেন, সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় পাঁচ মাস পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় তাঁরা হতাশ। তাঁর অভিযোগ, বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা তাঁদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মারমুখী ও আক্রমণাত্মক আচরণ এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাঁদের আহ্বান, সাত কর্মদিবসের সময়সীমা যেন সাত মাসে গড়ায় না। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তদন্ত শেষ করতে বিলম্বের কারণ ও সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। নানা ধরনের ব্যস্ততার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চলতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।