শিরোনাম

ওসির ফেসবুকে ছবি প্রকাশ, ‘মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর’ অভিযোগ কীটনাশক ব্যবসায়ীর

ওসির ফেসবুকে ছবি প্রকাশ, ‘মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর’ অভিযোগ কীটনাশক ব্যবসায়ীর

 ‘oc saidpur’ নামের ফেসবুক আইডিতে নিজের ছবি প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের কীটনাশক ব্যবসায়ী শফিউল্লাহ খান শফি।

তাঁর অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের তথ্যসংবলিত একটি পোস্টে তাঁর ছবি প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বিবেচনা করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সৈয়দপুরের আদানী মোড় বাস টার্মিনাল এলাকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নূর ট্রেডার্সে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারেও ‘কীটনাশক ব্যবসায়ীকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে ফেসবুকে ছবি প্রচার করার প্রতিবাদে’ লেখা ছিল।
শফিউল্লাহ খান শফির ভাষ্য, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশ তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে আটক করে। পরদিন থানায় তাঁর ছবি তোলা হয়। পরে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার ‘oc saidpur’ নামের ফেসবুক আইডিতে নিজের ছবি দেখতে পান তিনি। ওই দিনের পোস্টে ২৪ ঘণ্টায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার এবং ১৬টি ট্যাপেন্টাডল ও ১০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
শফির অভিযোগ, পোস্টে তাঁর নাম উল্লেখ না থাকলেও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের তথ্যের সঙ্গে তাঁর ছবি প্রকাশ করায় পাঠক-দর্শকদের মধ্যে তাঁকে মাদক কারবারি হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে তাঁর ব্যবসা, সামাজিক পরিচিতি ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে শফিউল্লাহ বলেন, ছবি প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি তাঁকে বলেন, ‘পোস্টে তো নাম দেওয়া হয়নি। সমস্যা নেই।’ তবে শফির বক্তব্য, নাম না থাকলেও পরিচিত ব্যক্তির ছবি দেখে অনেকে তাঁকে শনাক্ত করতে পারেন। তাই শুধু নাম না থাকার যুক্তিতে তাঁর উদ্বেগ দূর হয় না।
শফিউল্লাহ জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। তাঁর দাবি, ছবিটি যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে তাঁর পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, কাউকে হেয় করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়; বরং ছবিটি প্রকাশের প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে কোনো বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন হয়ে থাকলে তা সংশোধন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজের বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন শফি। তাঁর দাবি, ওই মামলায় তাঁকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং মামলার শুনানির তারিখ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তাই তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশের ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং সম্ভাব্য ভুল ধারণা দূর করতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে জানান শফিউল্লাহ খান শফি।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, ‘পোস্টে তো নাম দেওয়া হয়নি। সমস্যা নেই।’ তিনি বলেন, অসাবধানতা বশত: এটি ভুল হয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর