শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, আবার কোথাও চলছে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ ও আলোকসজ্জার কাজ। এরই মধ্যে ব্যতিক্রমী উপকরণে তৈরি প্রতিমা ও নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বাজারগুলোতেও।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৬১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আয়োজকদের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপে দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি প্রতিমা এবার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিমাটি তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কলারোয়া পৌরসভার উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে সাদা তিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। দেশীয় উপকরণের সৃজনশীল ব্যবহারে প্রতিমাটিতে ফুটে উঠেছে শিল্পকলার ভিন্নধর্মী প্রকাশ।
এ ছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার আমিয়ান বাথানডাঙা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে সোলার ককশিট দিয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে কৃত্রিম ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও বিশেষ লাইটিং শোর আয়োজন।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল বলেন, জেলার সব মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদ্যাপন কমিটি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্যাপনই তাঁদের প্রত্যাশা। দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে মণ্ডপে আসতে পারেন, সে জন্য আয়োজকেরাও সচেতন রয়েছেন।
এদিকে দুর্গোৎসব উপলক্ষে সাতক্ষীরা শহরের পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও গয়নার দোকানে বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। নতুন পোশাক, শিশুদের জামাকাপড় ও উৎসবের অন্যান্য সামগ্রী কিনছেন অনেকে। ব্যবসায়ীদের আশা, পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসবে, কেনাকাটার ব্যস্ততাও তত বাড়বে।
পাটকেলঘাটা বাজারের ভারতী গার্মেন্টসের মালিক মানস সাধু বলেন, পূজা উপলক্ষে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। তবে বিক্রির প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে উৎসবের আগের দিনগুলোতে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে তিন স্তরে কাজ করা হবে। দৃশ্যমান পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি, টহল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা উসকানি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।