বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে নয়াপল্টনে দ্বিতীয় জানাজা শুরু হয়। জানাজা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্যেও সালাউদ্দিন আহমেদ নিজের আদর্শ এবং দলের প্রতি আনুগত্যে অবিচল ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগ বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, সাহস, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সালাউদ্দিন আহমেদ ঢাকা মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও মহানগর বিএনপির প্রতিটি কর্মকাণ্ড, মিছিল ও আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন তাঁর বাবার কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিএনপি ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর শ্যামপুরের লাল মসজিদে সালাউদ্দিন আহমেদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে জুরাইন গোরস্থানে তাঁর বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
সালাউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আন্দোলনের সময় সালাউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দলটির দাবি, কারাগারে থাকাকালে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।